নওগাঁয় ৬ জানালা খুলে নেওয়ার অভিযোগে আত্রাইয়ের ইউপি চেয়ারম্যান অবরুদ্ধ
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ছয়টি কাঠের জানালা বিনা অনুমতিতে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনতা চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে ছয়টি জানালা দুটি ভ্যানগাড়িতে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যান দুটির গতিরোধ করেন এবং জানালাগুলো জব্দ করেন।
এ ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে জড়ো হয়ে চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ঘিরে ফেলেন এবং অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান ও আত্রাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে করে চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের পরিষ্কার ঘোষণা, এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ইউনিয়ন পরিষদে আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং বসতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে ভোঁপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন বা নিয়মনীতি ছাড়াই পরিষদের জানালা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি কেবল অনিয়মই নয়, বরং সরকারি সম্পদ তছরুপের শামিল এবং এটি গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।”
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, “সরকারি সম্পদ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনগণ মালামালগুলো জব্দ করেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি এবং চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিই। এ সময় চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন তার অপরাধ স্বীকার করেছেন।”
এ বিষয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, “উত্তেজনা এড়াতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মো. মঞ্জুরুল আলমের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: