প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ তরুণের স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত কলঙ্কজনক অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুনীর চৌধুরী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লক্ষ লক্ষ তরুণের ঘাম, শ্রম ও মেধায় লালিত স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। সরকারি চাকরি পাওয়া কারও অনুকম্পা নয়, এটি মৌলিক অধিকার।
মুনীর চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগেও নিয়োগপ্রক্রিয়াকে জটিল আবর্তে বন্দী রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রে বড় বড় অবকাঠামো ও চাকচিক্যময় ভবন থাকলেও দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ ও নৈতিক চেতনাবোধ কেন এত দুর্বল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পোস্টে মুনীর চৌধুরী দ্রুত দুদক ও সিআইডির মাধ্যমে দুর্নীতির ঘটনা উদ্ঘাটন, তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের চিহ্নিত এবং দায়ীদের গ্রেফতারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর বেদনা ও ক্ষোভ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মুনীর চৌধুরী তার পোস্টে কয়েক বছর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনারও উল্লেখ করেন।
তার দাবি, ওই ঘটনায় সিআইডির মাধ্যমে ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তাদের ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এ ছাড়া প্রার্থীপ্রতি ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মানুষের ঘাম ঝরানো উপার্জনের অর্থ কীভাবে দুর্নীতিবাজদের পকেটে চলে গেল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের দ্বারস্থ হয়ে ঘুষ দেওয়া অভিভাবক ও ব্যক্তিদেরও দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিয়োগ পরীক্ষাকে দুর্নীতির জাল থেকে বের করে আনার আহ্বান জানিয়ে মুনীর চৌধুরী বলেন, দ্রুত মামলা দায়েরের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দুদকের সাবেক এই মহাপরিচালক বলেন, তার চাকরিজীবনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় বড় নিয়োগ পরীক্ষা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, যেখানে কোনো কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। দক্ষ ব্যবস্থাপনা, নিখুঁত নজরদারি ও নৈতিক দৃঢ়তা থাকলে দুর্নীতি কেন ঘটবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: