নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: চার শিক্ষার্থীকে বিএনপি কার্যালয়ে আটকে রেখে নির্যাতন
নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: চার শিক্ষার্থীকে বিএনপি কার্যালয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের পর পুলিশে সোপর্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা):
বরগুনার আমতলীতে কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে তাঁদের আমতলী থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে আমতলী উপজেলার মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই নবীন শিক্ষার্থীদের একাংশ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়। মুহূর্তেই সেই ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
ভুক্তভোগীদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে ইউনুস আলী খাঁন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে তুলে নিয়ে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিম নামের আরও দুই শিক্ষার্থীকে একইভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম, জালাল ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরসহ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি।
আসিফের স্বজনেরা দাবি করেন, বিএনপি কার্যালয়ে দিনভর আটকে রেখে জালাল উদ্দীন ফকিরের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, "আমার ছেলেকে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী মহিষকাটা থেকে তুলে নিয়ে পার্টি অফিসে আটকে রাখে।"
ইউনুস আলী খাঁন কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুব ও ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সাইফুল কাজী ও সুজাকে তুলে নিয়ে যান।
তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির বলেন, "দলীয় নেতা-কর্মীরা ওই চারজনকে এনে ঘটনার পেছনে কার ইন্ধন রয়েছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরবর্তীতে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়।"
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, চারজনকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার তাঁদের আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: