• ঢাকা
  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. রাজনীতি

আমতলীতে নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৪ শিক্ষার্থী কারাগারে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:১২ পিএম;
আমতলীতে নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৪ শিক্ষার্থী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা):

 

বরগুনার আমতলীতে একটি ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, এ ঘটনার জের ধরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আটকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। 
পরে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বরগুনা কারাগারে পাঠায়।

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিজাউল কবির বাদী হয়ে আমতলী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মহিষকাটা এলাকার ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন এবং আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মো. মাহবুবুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরবর্তীতে এই স্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।


অভিযোগ উঠেছে, স্লোগানের ঘটনার পরদিন শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পেছনে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম, জালাল উদ্দীন ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকির এবং ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতা-কর্মীর নাম উঠে আসে।

এর তিন ঘণ্টা পর, জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিম নামের আরও দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ভুক্তভোগী আসিফের পরিবারের অভিযোগ, এই চার শিক্ষার্থীকে সরাসরি উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে তাঁদের আমতলী থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।


মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার নবীনবরণ চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে কলেজে উত্তেজনা ছড়ায়। পরবর্তীতে ওই দিন গভীর রাতে (রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে) আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কলেজের সামনে জড়ো হন। তাঁরা কলেজের ফটক ও সামনের সেতু ভাঙচুরসহ টায়ারে আগুন দিয়ে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেন।

এছাড়া বাদী রিজাউল কবিরের দাবি, তিনি বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাঁকে বিএনপির কর্মী বলে গালিগালাজ করে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াকুব হোসাইন জানান, “নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় চারজনকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন