বরগুনায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে হেনস্তা: অভিযুক্ত এসআই প্রত্যাহার, জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার
বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনায় এক কোটি টাকার কথিত চাঁদাবাজি মামলায় দৈনিক কালবেলা-এর প্রতিনিধি আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসজেএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ সুপার এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে তিন থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত রবিবার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হলে বিচারক জামিন শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। তবে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির লক্ষ্যে আদালত তা একদিন পিছিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পুনরায় নির্ধারণ করেছেন।
মামলায় আসাদ সবুজের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করছেন আইনজীবী এম এ বারী মতিন, এডভোকেট মোস্তফা কাদের এবং এডভোকেট বাবুল দাস।
ঘটনা তদন্তে বিএমএসজেএফ-এর একটি প্রতিনিধি দল বরগুনা সফর করেছে। সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, "পুলিশ গ্রেপ্তারের নামে সাংবাদিক আসাদ সবুজের ওপর যে নিপীড়ন চালিয়েছে, তা দেশজুড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। সরজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলের ষড়যন্ত্র হিসেবে এই সাজানো মামলাটি করা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির করা এক কোটি টাকার কথিত চাঁদাবাজি মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এ ভিত্তিহীন মামলাটি করা হয়।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: