• ঢাকা
  • বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. বিচিত্র সংবাদ

অযত্নে অবহেলায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে পড়ে আছে রানীপুর মিয়াবাড়ির শাহী জামে মসজিদ।  


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:১১ পিএম;
অযত্নে অবহেলায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে পড়ে আছে রানীপুর মিয়াবাড়ির শাহী জামে মসজিদ

লিটু দেবনাথ,পটুয়াখালী প্রতিনিধি :


পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সুবিদখালী ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামে মোগল আমলের ৩৫০ বছরের পুরনো মিয়াবাড়ির শাহী জামে মসজিদ। সংস্কারে ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে এর সুন্দর্য। 
অযত্নে অবহেলায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে পড়ে থাকা মোগল আমলের মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীন ও অন্যতম নিদর্শন এটি। দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে মসজিদটির সৌন্দর্য্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। 

প্রায় ৩৫০ শত বছর আগের এই মিয়া বাড়ি বা চৌধুরী বাড়ি। সুবিদখালী বাজার থেকে সাড়ে তিন ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে রানীপুর মিয়াবাড়ি অবস্থিত। 
তবে এই মিয়াবাড়া সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস কোথাও লিপিবদ্ধ নেই। এলাকার লোক মুখ থেকে জানা যায় এই মিয়া বাড়ি ছিল মুঘল আমলের খাজানসি শিবন খা'র জমিদারির একাংশ। রানীপুর মিয়াবাড়ির জমিদার ছিলেন আরমান আলী।
আর  এই আরমান আলী শাহী জামে সমজিদটি নির্মান করেন এবং তার নাম অনুসারে এই শাহী জামে সমজিদের নাম রাখেন আরমান আলী শাহী জামে মসজিদ। 
যা প্রত্যতত্ত্ব ও স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ সৌন্দর্য্যরে দৃষ্টান্ত হয়ে মাথাউচু করে সগৌরভে দাঁড়িয়ে আছে।জমিদার আরমান আলীর  বংশধরদের নানাবিধ সমস্যার কারণে  রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় মসজিদটি এখন সৌন্দর্য্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।
এক গম্বুজ বিশিষ্ট আরমান আলী জামে মসজিদটি চুনসুরকি দিয়ে নির্মিত। মসজিদটির মূল ভবন চারপাশে ২৫০ বর্গফুট বিশিষ্ট। উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। চার কোনায় চারটি মিনার রয়েছে। 
একতলা মসজিদটি নিখুঁত কারুকার্যবেষ্টিত। মসজিদের ভেতরে ৩০থেকে ৩৫ জন মুসল্লি একত্রে নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদের ভেতরের ও বাইরের সমস্ত পলেস্তরা এখন খসে পড়ছে। 
বৃষ্টির পানিতে মসজিদের দেয়ালে শেওলা জমে বিবর্ণ হয়ে গেছে মসজিদের সৌন্দর্য্য। মসজিদের বাহির দিকে রয়েছে বিভিন্ন কারুকার্যখচিত মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। মসজিদ-সংলগ্ন একটি বড় দীঘি রয়েছে। 
মুসল্লিরা এখানে ওজু ও গোসল করেন। এলাকাবাসী ও দর্শনাথিরা মনে করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উদ্যোগ নিলে এটি হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী মুসুল্লী মো. মিজানুর রহমান বলেন, মসজিদটি দ্রুত সংস্কার করলে আরো দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। একযুগ আগে একবার সংস্কার করা হয়েছিলো।

মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউসুফ বলেন, ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে টিকে থাকা শৈল্পিক স্থাপনাজুড়ে এই মসজিদটিতে এখন শুধুই অযত্ন আর অবহেলার ছাপ। মসজিদের দেয়ালের কিছু কিছু অংশের পলেস্তারা ধসে পড়ছে। 
এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনেকেই এই মসজিদটি দেখতে আসেন।     

মসজিদটি দ্রুত সংস্কার করলে  আরো দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ইসলামি স্থাপত্যশিল্প হিসেবে টিকে থাকবে বহুদিন। 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন