• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

কলাপাড়ায় নূরপুর দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়ম, বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৫৮ পিএম;
কলাপাড়ায় নূরপুর দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়ম, বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

কলাপাড়ায় নূরপুর দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

 পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নূরপুর দাখিল মাদ্রাসায় তিনটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে গোপনে ‘পকেট কমিটি’ গঠন এবং ভারপ্রাপ্ত সুপারের শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রার্থী ও স্থানীয়রা। এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।

গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের নূরপুর দাখিল মাদ্রাসার সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক ও আয়া—এই তিনটি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গোপনে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয় এবং অনেক যোগ্য প্রার্থীকে পরীক্ষার বিষয়ে যথাসময়ে চিঠি বা মুঠোফোনে জানানো হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মো. মুসা, অফিস সহায়ক পদে ৯ জনের মধ্যে মুসার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার নিশাত এবং আয়া পদে ৬ জনের মধ্যে মুক্তা মনি নিয়োগ পেয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্ত মো. মুসা ও রাবেয়া আক্তার নিশাত মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়ালের যথাক্রমে শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রী।

প্রার্থীদের গুরুতর অভিযোগ

কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারী পদে নিয়োগপ্রার্থী মো. সিফাত উল্লাহ জানান, পরীক্ষার মাত্র দুদিন আগে তাঁর কাছে পরীক্ষার চিঠি পৌঁছায়। তাঁর অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার কথা বলে মাদ্রাসার সভাপতি মো. জাকির হোসেন তাঁর বাবার মাধ্যমে জমি বিক্রি করিয়েছেন এবং ১০ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে নিয়োগ বাতিল ও মেধার ভিত্তিতে পুনরায় পরীক্ষার দাবি জানান।

আয়া পদে নিয়োগপ্রার্থী আরিফার মা পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে চাকরি দেওয়ার নাম করে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল অগ্রিম চার লাখ টাকা নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর মেয়েকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি হয় টাকা ফেরত, নতুবা নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ নিয়োগের দাবি জানান।

আরেক প্রার্থী মারুফা আক্তার অভিযোগ করেন, নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীকে অবৈধভাবে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন।

বঞ্চিত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁর বাবা ছিলেন মাদ্রাসার জমিদাতা মরহুম আব্দুর রশিদ খান। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় সব নিয়ম লঙ্ঘন করে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সালাম ও সেলিম রেজাসহ অনেকে অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলের চরম অবনতি ঘটেছে। চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় ১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র দুজন। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল বলেন, “সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি।”

অন্যদিকে, মাদ্রাসার সভাপতি মোড় জাকিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, পরীক্ষার ফলাফল, পরীক্ষার্থীদের চিঠি বা মুঠোফোনে যোগাযোগের প্রমাণ, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ কঠোরভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। বিতর্কিত এই নিয়োগ বাতিল করে অবিলম্বে মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান তাঁরা।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন