ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে ছাত্রদল নেতাকে রাতভর নির্যাতন
ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে ছাত্রদল নেতাকে রাতভর নির্যাতন: কলাপাড়ায় সংবাদ সম্মেলন
পটুয়াখালী প্রতিবেদকঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতভর মারধর ও বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক। নির্যাতনকারীদের পা ধরে ও ‘আব্বা’ ডেকেও শেষ রক্ষা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন এই ছাত্রদল নেতা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের সাক্ষী হওয়াই কাল!
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেহেদী হাসান ফারুক জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের সরাসরি অভিযোগ এনেছেন।
ডিবি পরিচয়ে অপহরণ ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মেহেদী জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মহিপুর থেকে ওয়াকিটকি হাতে সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। পুরো অপহরণের ঘটনাটি আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে। পরবর্তীতে তাকে কলাপাড়ায় নিয়ে আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে রাত ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেহেদী বলেন, “আমি তাদের পা ধরে, ‘আব্বা’ বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ—এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। কিন্তু তাতেও তাদের মন গলেনি, তারা আমাকে ছাড়েনি।”
চিকিৎসাধীন ও নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঘটনার রাতে খবর পেয়ে মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার বরিশালে নিতে হয়।
বর্তমানে নির্যাতনের দৃশ্য ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চরম শারীরিক ও মানসিক বিপর্যস্ততার মধ্যে দিন কাটানো এই ছাত্রদল নেতা পরিবারসহ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
অভিযুক্তদের বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান
এদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা দাবি করেছেন—এ ঘটনার সাথে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: