• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. উৎসব / দিবস

দূর্গোৎসবের মহানবমীতে খাইলপাড়া নন্দী বাড়িতে ছিল উপচে পড়া ভীড় 


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৫৭ পিএম;
দূর্গোৎসবের মহানবমীতে খাইলপাড়া নন্দী বাড়িতে ছিল উপচে পড়া ভীড় 

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

দূর্গোৎসবের মহানবমীতে খাইলপাড়া নন্দী বাড়িতে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ করা গেছে। 
রবিবার (২০ অক্টোবর ২০২৬)  দূর্গোৎসবের মহানবমীতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০নম্বর ময়না ইউনিয়নের খাইলপাড়া ঐতিহ্যেবাহী নন্দী বাড়ি দর্শক-ভক্ত ও শুভানুরাগীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ করা গেছে। নন্দী বাড়ির পারিবারিক এই আয়োজন প্রতি বছরের মত এবারও বেশ জমকালো ছিল। ভেদাভেদ ভুলে অন্যধর্মের বিপুল সংখ্যক দর্শককে উৎসবে দেখা যায়। 
শারদীয় দুর্গাপূজার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পুণ্যময় তিথি হলো মহানবমী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহানবমীর দিনেই দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করে এবং এর মাধ্যমেই অধর্মের ওপর ধর্মের জয় সুনিশ্চিত হয়। 
সনাতনী শাস্ত্র মতে, মহানবমী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ।
নবমী তিথিতে দেবী দুর্গা চণ্ডীরূপে লড়াকু ভঙ্গিতে অবতীর্ণ হন এবং মহিষাসুরকে বধ করেন। তাই এই দিন দেবীকে 'মহিষাসুরমর্দিনী' হিসেবে পূজা করা হয়।
নবরাত্রির নবম দিনে দেবী দুর্গার নবম রূপ 'মা সিদ্ধিদাত্রী'রও পূজা হয় এই দিনে। তিনি সকল প্রকার সিদ্ধি (আধ্যাত্মিক ও জাগতিক ক্ষমতা) প্রদানকারী।
নবমী হলো আনন্দের ও উৎসবের চরম মুহূর্ত, কারণ এর পরের দিনই দশমীতে দেবী মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাশে ফিরে যান। এবার দেবি দূর্গার আগমন হয়েছে ঘটকে (ঘোড়ায়) চড়ে এবং  যাবেন নৌকায় করে। 

মহানবমীর দিন বেশ কিছু বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় আচার পালন করা হয়:
সকাল থেকেই মন্ত্রোচ্চারণ, চণ্ডীপাঠ এবং বিশেষ উপচারের মাধ্যমে দেবীর মহানবমী বিহিত পূজা শুরু হয়। এই পূজার মাধ্যমে দেবীর চণ্ডী রূপের আরাধনা করা হয়। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুসারে নবমীর দিন ছাগল, চালকুমড়ো, বা আখ বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে। প্রতীকী এই বলিদানের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভেতরের অহংকার, ক্রোধ ও পশুবৃত্তি বিসর্জন দেওয়া।
মহানবমীর একটি প্রধান আকর্ষণ হলো নবমী যজ্ঞ। তিল, ঘি, বেলপাতা ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে আগুনের শিখায় দেবীর উদ্দেশ্যে আহুতি দেওয়া হয়। এই যজ্ঞের মাধ্যমে পরিবেশ ও মন শুদ্ধ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
কিছু কিছু মণ্ডপ ও মন্দিরে অষ্টমীর মতো নবমীতেও কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়, যেখানে ছোট মেয়েকে দেবীরূপে বন্দনা করা হয়। সন্ধ্যার সময় বিশেষ আরতি এবং ঢাকের তালের সাথে ঐতিহ্যবাহী 'ধুনুচি নাচ' মহানবমীর আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মহানবমীর একটি সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। এটি মিলন ও সৌহার্দ্যের দিন। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন এবং একসঙ্গে আনন্দের শামিল হওয়ার মাধ্যমে এই দিনটি উদযাপিত হয়। উৎসবের শেষ লগ্নে এসে ভক্তদের মনে দেবীর বিদায়ের সুর বাজলেও, মণ্ডপগুলো জাঁকজমক ও আলোয় ভরে থাকে। খাইলপাড়া নন্দী বাড়িতেও তার কোনো ব্যত্যয় ঘটে নি। নবমীর এই আনন্দ পরিবারের সব সদস্যদের একত্রে ভাগ করে নিতে ভুলেননি নন্দী বাড়ির লোকেরা। তাই পূজার এক ফাঁকে দেবি দূর্গার সামনে সমবেত হয়েছিলেন একে অপরের সাথে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে ছোট-বড় সব সদস্য। আজ দেশ মাতৃকার শান্তি কামনা করেও প্রার্থণা করা হবে বলে জানালেন নন্দী বাড়ির বয়:জেষ্ঠ্য।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন