আলফাডাঙ্গায় ঘুসের টাকাসহ নির্বাচন অফিস সহকারীকে পাড়াও
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
ঘুসের টাকাসহ নির্বাচন অফিস সহকারীকে পাকড়াও করে ইউএনও’র কাছে নিয়ে গেলেন যুবক। অভিযুক্ত অফিস সহকারীর সঙ্গে ভুক্তভোগী যুবকের ধস্তাধস্তি হয়।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী (কম্পিউটার) যশময় সাহা ঘুস নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। নতুন ভোটার আইডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৩ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন তিনি। ভুক্তভোগী মো. ইউছুফ নামে এক যুবকের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ঘুসও নেন যশময়। এসময় ভুক্তভোগী যুবক ইউছুফ ও অফিস সহকারী যশময় সাহার মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘুসের টাকাসহ যশময় সাহাকে ঝাপটে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে নিয়ে যান। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন ইউএনও।
ঘটনার কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্বাচন কার্যালয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌর সদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের ছেলে ইউসুফ উপজেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী (কম্পিউটার) যশময় সাহার কাছে তার ছোট ভাই নাসির উদ্দিনের নতুন ভোটার আইডি কার্ড করতে কাগজপত্র নিয়ে যান। এসময় দ্রুত কাজ করতে হলে ইউসুফের কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন যশময় সাহা। তখন ইউসুফ প্রথমে ১ হাজার ৫০০, পরে আরও ৫০০ টাকা দেন এবং জানতে চান এই টাকা কি সরকারি কোষাগারে অথবা ওপর মহলে দেওয়া লাগে? অফিস সহকারী না বললে তখন দুই জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকে ইউএনও’র কক্ষে নিয়ে বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী (কম্পিউটার) যশময় সাহার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ইউসুফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের বয়স ১৮ বছর তিন মাস। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার পরও ৩ হাজার টাকা ঘুস দাবি করে। পরে ২ হাজার টাকা দিয়ে জানতে চাই এই টাকা কোথায় জমা দেবেন। তখন তিনি জানান কোথাও না। নিজেদের একটা খরচ আছে তো তাই। তখন তাকে টাকাসহ ধরে নিয়ে ইউএনও’র কক্ষে নিয়ে শাস্তি দাবি জানাই। তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও অভিযোগ দিতে বলেন এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।’
এ বিষয়ে কথা হয় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনজুরুল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি অফিসে ছিলাম, তখন ভোটারদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম। যশময়ের কাজ ছবি তোলা। হঠাৎ বাইরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে বিষয়টি জানতে পারি। তখন যশময় সাহার কাছে ঘটনা জানতে চাইলে বলেন, দ্রুত কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমাকে টাকা দিয়ে ভিডিও করেছে। পরে আমি বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, ‘আমার কাছে এসেছিল। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: