পায়রা সেতুতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: তরুণ-তরুণীকে হেনস্তা করে টাকা আদায়, সাংবাদিককে ধাওয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর লেবুখালী পায়রা সেতুতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেতুতে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে, যেখানে তরুণ-তরুণীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সেতুর ওপর ১৫-১৬ জনের একটি কিশোর দল এক জোড়া তরুণ-তরুণীকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করে এবং জোরপূর্বক টাকা
আদায় করে। এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে এক সাংবাদিককেও ধাওয়া করে ওই কিশোররা।
ভুক্তভোগী তরুণ আসাদ (২১) জানান, তিনি সুবিদখালী থেকে পায়রা সেতুতে ঘুরতে এসেছিলেন। সেতুর ওপর পৌঁছানোর পর ওই কিশোর দল তাদের ঘিরে ধরে এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। আসাদ বলেন, “তারা আমাদের জানায়—এখানে ঘুরতে আসতে হলে টাকা দিতে হবে, এমনকি সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকেও তারা নাকি টাকা নেয়! টাকা না দিলে ব্রিজের নিচে নিয়ে কান ধরে
উঠবস করানোর হুমকি দেওয়া হয়। আমার কাছে থাকা ২০০ টাকা তারা জোর করে কেড়ে নেয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সাংবাদিক ও পুলিশ আসার টের না পেলে তারা আমার মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নিত।” এ সময় রায়হান শরীফ নামের এক কিশোর তাকে সবচেয়ে বেশি হেনস্তা করেছে বলে জানান তিনি এবং এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক সংবাদকর্মী জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল থেকে পটুয়াখালীর দিকে যাওয়ার পথে তিনি দেখতে পান একদল কিশোর এক তরুণ-তরুণীকে ঘিরে রেখেছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মোটরসাইকেল থামিয়ে কারণ জানতে চান। এ সময় কিশোররা তাকে দ্রুত চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
পরে তিনি দূর থেকে ছবি তোলার চেষ্টা করলে কিশোররা তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে ধাওয়া করে। পরে নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে দুমকি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ ভুক্তভোগী তরুণ-তরুণীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে।
দুমকি থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এর আগে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাদের কাছে ছিল না। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রোধে পুলিশ সবসময় সোচ্চার রয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা জানান, পায়রা সেতু পটুয়াখালীর অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন এখানে দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন, যার মধ্যে তরুণ-তরুণীদের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও উন্মুক্ত পর্যটনকেন্দ্রে সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির ঘটনা সাধারণ দর্শনার্থীদের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
পায়রা সেতু এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: