• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও শাশুড়িকে বেঁধে বিলে ফেলে বসতঘরে অগ্নিসংযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৫৯ পিএম;
গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও শাশুড়িকে বেঁধে বিলে ফেলে বসতঘরে অগ্নিসংযোগ

পটুয়াখালীতে জমি নিয়ে বিরোধ: গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও শাশুড়িকে বেঁধে বিলে ফেলে বসতঘরে অগ্নিসংযোগ
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

 


পটুয়াখালীর মহিপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানি এবং তার বৃদ্ধ শাশুড়িকে হাত-পা বেঁধে বিলে ফেলে রেখে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামে ভোররাত ও সন্ধ্যার পর পৃথক এই দুটি ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (৩৫) ও তার শাশুড়ি কহিনুর বেগমকে (৬৮) উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধুলাসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামের আবদুল বারেকের সঙ্গে একই এলাকার শহিদুল ইসলাম গংদের ৭ দশমিক শূন্য এক (৭.০১) একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বর্তমানে জমিটি আবদুল বারেকের দখলেই রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে প্রতিপক্ষরা তাদের কাছে এক একর জমি ও সাত লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ঘেরের মাছ লুট করে নেয়। এরপর থেকে প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকির মুখে গৃহকর্তা আবদুল বারেক বাড়িছাড়া রয়েছেন। বাড়িতে কেবল তার স্ত্রী কহিনুর বেগম ও পুত্রবধূ শাহিনুর বেগম অবস্থান করছিলেন।

গত শনিবার ভোররাতে প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে গৃহবধূ শাহিনুর বেগমকে বেদম মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ওই দিন রাত আটটার দিকে বৃদ্ধা কহিনুর বেগমের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। প্রতিপক্ষরা তাকে মারধর শেষে হাত, পা ও মুখ বেঁধে পাশের বিলে ফেলে দেয় এবং বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, “বারেকের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় বেল্লাল নামের এক ব্যক্তির বিরোধ রয়েছে। শনিবার বেল্লাল খালে মাছ ধরার সময় বারেকের ছেলে বশির তার ওপর হামলা চালায়।” বারেকের ঘরে আগুন লাগার বিষয়ে তার কোনো জানা নেই দাবি করে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

ঘটনার বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন