• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

গলাচিপায় ‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশকে হেনস্তা ও মামলার আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:০৬ পিএম;
গলাচিপায় ‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশকে হেনস্তা ও মামলার আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

 

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মারামারি মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে উসকে দিয়ে ‘মব’ (উত্তেজিত জনতা) সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরকপালবেড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল মারামারি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফোরকান খানকে গ্রেপ্তার করতে চরকপালবেড়া বাজারে যায়। পুলিশ তাকে আটক করার পর চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিট যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর,
 সাবেক সদস্য খলিল হাওলাদার এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি লিটু খানের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোটা ও উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে। এ সময় তারা পুলিশকে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে বাধা দেন এবং এসআই কামাল হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে পুলিশ বাধ্য হয়ে আসামিকে না নিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

মামলার বাদী হেনা বেগমের দেবর তুহিন খান বলেন, “পুলিশ মামলার আসামি ফোরকান খানকে আটক করার পরপরই যুবদল নেতা হাতেম মাতুব্বর, খলিল হাওলাদার ও বিএনপি নেতা লিটু খানের নেতৃত্বে শতাধিক লোক জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং বলপ্রয়োগ করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।”

অভিযোগের বিষয়ে যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর বলেন, “আমরা ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। তবে আসামি ফোরকান খান ওই মারামারির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাই সাধারণ এলাকাবাসী তাকে গ্রেপ্তার না করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছে মাত্র।”

তবে এ বিষয়ে চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বলেন, “তথ্য পেয়ে আমরা চরশিবা বাজারে আসামি ধরতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে এবং স্থানীয়দের বাধার মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় অভিযান ব্যাহত হয়।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় এক দোকানদার মো. ফিরোজ খানের কাছে ফেরদৌস খান, মকবুল খান ও ফোরকান খান বাকিতে সিগারেট চান। দোকানদার আগের বকেয়া টাকা পরিশোধের কথা বলে আরও বাকি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজ খানের ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন।
 এ সময় মারামারি থামাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. দুলাল খান এগিয়ে এলে তাকেও বেদম মারধর করা হয়।

এই ঘটনার জেরে ইউপি সদস্য মো. দুলাল খানের স্ত্রী হেনা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ফোরকান খান।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন