স্ত্রীকে ভারতে পাচার মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের মামলায় স্বামী জাহিদ শেখ (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে ফরিদপুর জেলা মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইবুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার এক নারীর সঙ্গে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার এক যুবক জাহিদদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জাহিদ পোশাক কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান এবং পরে বিয়ে করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর তাকে ভারতের কেরালায় পাচার করে দেওয়া হয় এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। সেখান থেকে কেরালা পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে। পরে আইনজীবীর সহায়তায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এ ঘটনায় ওই নারীর মা বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ৫ মার্চ জাহিদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা করেন। তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার এসআই মো.কামরুজ্জামান ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালত একই আইনের অপর একটি ধারায় জাহিদকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। তবে দুই সাজা একসঙ্গে ভোগ করবেন তিনি।
মামলার অপর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: