বোয়ালমারীতে ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর-টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে মারধর এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বিকাশে থাকা ২৫ হাজার ৪৮০ টাকা ও একটি পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
রোববার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের চরবর্ণি গ্রামের বশির মোল্যার পুকুরপাড়ে ও শুকুরের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন চন্দনী উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আবু সাইদ মোল্যার ছেলে মাছ ব্যবসায়ী মোশারেফ মোল্যা। এ ঘটনায় তিনি ওইদিন রাতেই বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্ণিরচর এলাকায় বশির মোল্যার কাছ থেকে লিজ নেওয়া পুকুরে মাছের খাবার দিতে যান মোশারেফ ওরফে মুশা। খাবার দিয়ে পুকুর থেকে ওপরে উঠতেই কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা ৭-৮ জন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলেন।
তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মোশারেফকে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাকে একটি ভ্যানে করে চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল এলাকার একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে তাকে মারধর করে নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বিকাশ থেকে আরও ২৫ হাজার ৪৮০ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন মোশারেফ। পরে আরও টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বোয়ালমারী পৌরসভার বাস টার্মিনালের পাশে পুরাতন আখ সেন্টারের কাছে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় তার ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেলও নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সাক্ষর নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মোশারেফ।
ভুক্তভোগী মোশারেফের ওরফে মুশার দাবি, তাকে তুলে নেওয়া ৭-৮ জনের মধ্যে ময়না গ্রামের মামুন মোল্যা ও শিবপুর গ্রামের রমজান নামে দুজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তাদের নেতৃত্বেই তাকে আটক, মারধর ও ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা চুন্নু মোল্লা বলেন, দুপুরে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মারধরের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যাই। পরে দেখি, মুশাকে ডিবি পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যায়।
স্থানীয় ভ্যানচালক বাবু বলেন, আমি ভ্যান নিয়ে যাওয়ার সময় দেখি কয়েকজন মিলে মুশাকে অন্য একটি ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছে। সে 'ভাই, আমাকে বাঁচান' বলে চিৎকার করছিল। তারা ডিবি পরিচয় দেওয়ায় আমি আর কাছে যাইনি।
ভুক্তভোগী মোশারেফ মোল্যা বলেন, আমি পুকুরে মাছের খাবার দিয়ে ওপরে উঠতেই মামুন মোল্যা ও রমজানসহ ৭-৮ জন আমাকে আটক করে। চিৎকার করলে তারা গামছা দিয়ে আমার মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ডিবি পরিচয় দিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। পোয়াইলের একটি পরিত্যক্ত মাছের ঘেরের কাছে নিয়ে আমাকে মারধর করে নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও বিকাশ থেকে ২৫ হাজার ৪৮০ টাকা নিয়ে নেয়। আমার পালসার মোটরসাইকেলটিও নিয়ে গেছে। আমি এর বিচার চাই এবং আমার টাকা ও মোটরসাইকেল ফেরত চাই।
তবে মোশারেফের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামুন মোল্যা। তার দাবি, মোশারেফের কাছে তার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। মামুন মোল্যা বলেন, আমি মোশারেফের কাছে লাভের ওপর ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লাগিয়েছিলাম। সে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে, বাকি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়নি। ওই পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাকে ডিবি পরিচয় দিয়ে তুলে নেয়নি। পাওনা টাকা নিয়ে তার সঙ্গে আমার ঝামেলা হয়েছে। এখন উল্টো আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মোশারেফের অতীতের মাদক মামলার প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, তিনি আগে মাদক সংক্রান্ত মামলায় জড়িয়েছিলেন এবং পরে আর কোনো মাদক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হননি। তবে মামুন তাকে মাদক সংগ্রহের জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোববার রাত প্রায় ১২টার দিকে এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: