• ঢাকা
  • সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. বিচিত্র সংবাদ

হাওরে পাঁচ তরুণের স্বপ্নের তরী ‘বোরাক’


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৫৮ পিএম;
হাওরে পাঁচ তরুণের স্বপ্নের তরী ‘বোরাক’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

ভোর ৫টা। সুনামগঞ্জের নিয়ামতপুর ঘাটের চারপাশে তখনো গভীর নীরবতা। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই হাউজবোটের ইঞ্জিনের মৃদু গুঞ্জনে ধীরে ধীরে জেগে ওঠে চারপাশের হাওর। শান্ত জল কেটে সামনে এগিয়ে চলে একটি সুসজ্জিত হাউজবোট। যার গলুইয়ে বড় বড় অক্ষরে খোদাই করা রয়েছে নামটি— ‘বোরাক’। এই তরীর সঙ্গে যেন ভেসে চলছে পাঁচ তরুণের কয়েক বছরের লালিত স্বপ্নও। চারটি কক্ষ ও একটি নান্দনিক লবি মিলিয়ে একসঙ্গে ১৫ জনের থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে এই বোটে। রয়েছে খোলা ছাদ (রুফটপ), যেখান থেকে হাওরের জলরাশি ও প্রকৃতির রূপ খুব কাছ থেকে উপভোগ করা যায়। তবে এসব সুবিধার চেয়েও বড় বিষয় হলো— এই হাউজবোটের পেছনে লুকিয়ে থাকা পাঁচ তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য গল্প।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) পাঁচ মেধাবী শিক্ষার্থীর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে হাউজবোট ‘বোরাক’। হাতে ছিল না পর্যাপ্ত পুঁজি, ছিল না ব্যবসায়িক কোনো পূর্বঅভিজ্ঞতাও। সম্বল ছিল শুধু টিউশনি ও শিক্ষাবৃত্তির (স্টাইপেন্ড) জমানো টাকা, বন্ধুদের কাছ থেকে নেওয়া ধার এবং নিজেদের ওপর অগাধ বিশ্বাস। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করে তারা শুরু করেন হাউজবোট তৈরির সাহসী এক উদ্যোগ।
এই উদ্যমী গল্পের সূচনা হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বন্ধু— তানভীর আহমেদ কনক, আদিব হাসান প্রান্ত, মখসেদুল হক মুমিন ও এমদাদুল্লাহ চৌধুরী ঘুরতে গিয়েছিলেন প্রখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরে। ভ্রমণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ক্যানটিনে চা-সিঙাড়ার আড্ডায় সেই ভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা হচ্ছিল। ঠিক সেই আড্ডাতেই তাদের মাথায় আসে হাওরে নিজস্ব একটি হাউজবোট পরিচালনার অভিনব ভাবনা।
ভাবনাটি শুনতে যতটা সহজ ছিল, বাস্তবে এর রূপায়ন ততটা সহজ ছিল না। চার বন্ধুর হাতে ব্যবসা শুরুর মতো পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় তাদের সঙ্গে যুক্ত হন পঞ্চম বন্ধু বাঁধন। পাঁচজন মিলে নিজেদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়, টিউশনি ও স্টাইপেন্ডের টাকা এবং বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধার করে শুরু করেন ‘বোরাক’ তৈরির কাজ।

নৌকা নির্মাণ থেকে শুরু করে হাওরে তা সফলভাবে পরিচালনা করা— প্রতিটি কাজেই ছিল অভিজ্ঞতার বড় অভাব। তাই প্রাথমিকভাবে তাহিরপুরের একটি মাদ্রাসার এক শিক্ষককে নৌকা নির্মাণ ও পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব দেন তারা। একজন অভিজ্ঞ মানুষ পাশে থাকায় তরুণদের মনে ভরসাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই ভরসা বেশি দিন টেকেনি। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মালিকদের না জানিয়ে গোপনে ট্রিপ পরিচালনা এবং জ্বালানি তেল আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এতে বড় ধরনের মানসিক ও আর্থিক ধাক্কা খান এই তরুণ উদ্যোক্তারা।

তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে হার না মানা মানসিকতা নিয়ে তরুণরা এখন তাদের স্বপ্নের তরী ‘বোরাক’কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন